1. bnn.press@hotmail.co.uk : bhorersylhet24 : ভোরের সিলেট
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakir hosan : zakir hosan
সব খাতেই শক্তিশালী হয়েছে এনআরবিসির আর্থিক ভিত্তি - Bhorersylhet24

সব খাতেই শক্তিশালী হয়েছে এনআরবিসির আর্থিক ভিত্তি

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৩ বার ভিউ

মৃত্তিকা সাহা : দেশে চতুর্থ প্রজন্ম বা নতুন প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে কাজ করছে এনআরবিসি ব্যাংক। সম্প্রতি এনআরবিসি ব্যাংকসহ ব্যাংক খাত নানা বিষয় নিয়ে কালবেলার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন ব্যাংকটির পর্ষদ চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন  প্রতিবেদক মৃত্তিকা সাহা

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু হয় এনআরবিসি ব্যাংকের। যার পুনর্গঠিত পর্ষদে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন আপনি। ইতোমধ্যে ব্যাংকে আপনার নেতৃত্বের ৬ বছর পার হয়েছে। আগের ক্রান্তিকাল কাটিয়ে এই সময় ব্যাংকটির কতটা উত্তরণ সম্ভব হলো?

পারভেজ তমাল: এই ৬ বছরের ব্যবধানে এনআরবিসি ব্যাংক এখন সমসাময়িক ব্যাংকগুলোর তুলনায় সবার ওপরে। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর তুলনায়ও অনেক এগিয়ে। আমরা নতুন ব্যাংক হিসেবে এক কোটির ওপরে গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকি। এভাবে সব খাতেই আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে নতুন পথচলায়। যেমন ২০১৭ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সাল শেষে তা প্রায় ৪ গুণ বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। এভাবে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩ গুণেরও বেশি। ২০১৭ সালে যা ছিল ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সেটি ২০২৩ সাল শেষে উন্নীত হয়েছে ১৪ হাজার ৫০৮ কোটি টাকায়। একইভাবে ব্যাংকের কর্মীর সংখ্যা ৬১৭ জন থেকে ৬ গুণ বেড়ে ৩ হাজার ৮৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে শাখার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬১টি, যা ২০২৩ সাল শেষে শাখা-উপশাখা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০টিতে। কর-পরবর্তী মুনাফা ৯২.৮৯ কোটি থেকে ২০২২ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা।

 চলতি বছর আপনাদের লক্ষ্য এবং নতুন সেবা পরিকল্পনা কী?

পারভেজ তমাল: প্রতি বছর আমাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য থাকে। সেটি হলো, কত নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়, সেই চেষ্টা করা। এ লক্ষ্যে ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি কার্যক্রম এ বছরও অব্যাহত থাকবে। কারণ, কর্মসংস্থান তৈরিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য ব্যাংকের যে পরিমাণ আমানত রয়েছে, তা দিয়ে গ্রামে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করব। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঋণ বিতরণ বাড়িয়ে আমরা সারা দেশে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে চাই। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে আমরা খুব ভালো করছি; এই কাজটা এ বছর সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের স্লোগান হচ্ছে—এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা, সেটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই চলতি বছর ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। এই ক্ষুদ্র ঋণ কত কম সময়ের মধ্যে এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যায়, সেটা নিশ্চিত করাও অন্যতম লক্ষ্য। অনলাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ঋণ বিতরণের সীমা হবে ২০ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র ঋণের পাশাপাশি ন্যানো ঋণেও আমরা যাব, এর মাধ্যমে আরও অনেক বেশি মানুষকে আমরা সেবা দিতে পারব। পাশাপাশি আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেব।

ব্যাংকগুলো সাধারণত ক্ষুদ্র ঋণ দিতে চায় না; কিন্তু এনআরবিসি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে কেন?

পারভেজ তমাল: আমরা বুঝতে পেরেছি, নতুন ব্যাংক হিসেবে আমরা করপোরেট ব্যাংকিংয়ে খুব বেশি ভালো করতে পারব না। আমাদের মেরুদণ্ড এখনো অতখানি শক্তিশালী হয়নি। তাই আমরা ক্ষুদ্র ঋণে মনোযোগ দিয়েছি। শুধু ক্ষুদ্র ঋণ নয়, আমরা এখন ন্যানো ঋণেও চলে গেছি। এই খাতটি এখনো ফাঁকা। ক্ষুদ্র ঋণ এনজিও, সমবায় সমিতি ও মহাজনি প্রথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এতে গ্রাহকদের অনেক বেশি সুদ পরিশোধ করতে হয়। প্রকৃত অর্থে তারা ঋণ নিয়েও উপকৃত হতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনে এক অঙ্কের ঘরের সুদহারে ঋণ বিতরণ করছি। ২০২৩ সালে আমরা মোট ৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছি, যা ২০২২ সাল শেষে ছিল ১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা; ২০২২ সালে বৃদ্ধির পরিমাণ আরও কিছুটা বেশি ছিল। ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি করছি। উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছি। এতে কর্মসংস্থান বেড়েছে; সেইসঙ্গে এসব এলাকার মানুষের গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার প্রবণতাটাও অনেকখানি কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার ২ শতাংশের কম; আমি মনে করি, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলোর সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।

খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে, তার পরও কমছে না—সমস্যা কোথায়?

পারভেজ তমাল: ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ঋণ আদায় নীতিমালা নিয়ে। খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রতিটি ব্যাংকের শক্তিশালী দল আছে; এর পরও সাধারণ মামলায় দেড় থেকে তিন বছর সময় লেগে যায়। তাকে যদি আটকও করা হয়, তাহলেও দেখা যায়, খুব সহজেই জামিন পেয়ে যায়। ব্যাংক যুক্তিসংগত কারণে কোনো গ্রাহকের ঋণ খেলাপি করলে তারা সহজেই স্টে অর্ডার নিয়ে আসে। অর্থ ঋণ আদালতের এই সময় ক্ষেপণের কারণেই নির্দিষ্ট পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা অন্যান্য উন্নত দেশেও ঋণখেলাপিদের জন্য শক্তিশালী নীতিমালা রয়েছে। সেখানে যেন ঋণ খেলাপি না হয় এবং হলে কী কী করণীয়, তাও ঠিক করা থাকে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকে কেউ ঋণখেলাপি হলে ক্রেডিট কার্ড পায় না, ঋণখেলাপি হওয়ার পর পাঁচ বছর সে ব্যবসা করতে পারে না; ঋণখেলাপি হলে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না; তার যত ধরনের সম্পত্তি আছে, সব বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় এবং তারা কালেকশন কোম্পানির অধীনে চলে আসে; সামাজিকভাবেও সে খুবই হেয়প্রতিপন্ন হয়। এ ধরনের চর্চা যদি আমরা শুরু করি তাহলে দেখা যাবে, দেশেও ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে।

 খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের দায় আছে বলে মনে করেন?

পারভেজ তমাল: আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের দায় নেই, এটা আমাদের বাস্তবতা। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণেই মূলত এটা হচ্ছে। রিটের ক্ষেত্রে সিভিল রাইটসের অপব্যবহার হচ্ছে। ছোট ঋণের ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার অনেক জটিল হলেও বড় ঋণের ক্ষেত্রে অনেক সহজ। বড় ঋণগ্রহীতারা ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করেন, যাতে তিনি এই সময়ের মধ্যে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেন। সে জন্য একজন ঋণখেলাপি যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যেটা বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশেই আছে। আমাদের দেশেও এই আইন কার্যকর করা হলে অর্থাৎ ঋণখেলাপিদের সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করা গেলে খেলাপি হওয়ার মানসিকতা অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই কার্যকর হবে, ব্যবসায় মন্দাজনিত কারণে কেউ খেলাপি হলে সে ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

 ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নিয়োগ ও পরিচালকদের কার্যপরিধি নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

পারভেজ তমাল: পর্ষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক। এখানে পর্ষদের বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে অডিট কমিটি ও রিস্ক কমিটির। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের কোনো পরিচালকের নেওয়া ঋণ খেলাপি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তলব করবে। এসবই ভালো উদ্যোগ। এতে সুশাসন বাড়বে বলেই মনে করি।

  দেশে এত ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও আলাদাভাবে ডিজিটাল ব্যাংকের কী প্রয়োজন ছিল?

পারভেজ তমাল: আমাদের ব্যাংকগুলোর ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা করে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স দিয়েছে বলে আমি মনে করি। বর্তমান যুগে ব্যাংক ডিজিটাল না হলে চলে না; পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ এখন ক্যাশলেস হয়ে গেছে, সেখানে লেস ক্যাশ সোসাইটি নির্মাণ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল। সরকারের লক্ষ্যও ক্যাশলেস সোসাইটি নির্মাণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা তেমন মনোযোগ দিতে পারিনি, সে জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংককে আলাদাভাবে সেটি করতে হচ্ছে। বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরে বসেই পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহক তৈরি করেছে অথচ আমাদের ব্যাংকের মোট সক্রিয় গ্রাহক এখনো তিন কোটি ছাড়াতে পারেনি।

প্রবাসী আয়ে আমাদের সংকট এখনো কাটছে না কেন?

পারভেজ তমাল: প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে আছে। ফলে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে অন্য উপায়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার আশায় রেমিট্যান্স পাঠাতে চান। ফলে একটা ছোট ব্যাংকও চাইলে বেশি দর দিয়ে বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স আনতে পারে। কিন্তু বর্তমান দেশের বাজারে এই বেশি দরে রেমিট্যান্স আনা ঠিক হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। এর বদলে প্রবাসীদের অ্যাকাউন্টগুলো যদি আমাদের ব্যাংকগুলোতে থাকত এবং তাদের পারিশ্রমিক যদি এই অ্যাকাউন্টে সরাসরি আসত, তাহলে বাড়ত রেমিট্যান্স। যেসব ব্যাংকের বিদেশে শাখা রয়েছে তারাও প্রবাসীদের কাছে সঠিক উপায়ে পৌঁছতে পারছে না।কালবেলা

নিউজ শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *