1. bnn.press@hotmail.co.uk : bhorersylhet24 : ভোরের সিলেট
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakir hosan : zakir hosan
হবিগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে বান্ধবীর বিয়েতে আসা গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ - Bhorersylhet24

হবিগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে বান্ধবীর বিয়েতে আসা গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণ

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১
  • ২৮৪ বার ভিউ

হবিগঞ্জে প্রতিনিধি : ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করা বাগেরহাটের এক গার্মেন্টস কর্মী হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বান্ধবীর বিয়েতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পরে ধর্ষণকারীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’র নাটক সাজাতে ভিকটিমকে ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনার ভিকটিম থানায় অভিযোগ দিলে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মাঝে দুই নারী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এই ঘটনার বিষয় স্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের শ্মরণখোলা উপজেলার কোন্তাকাটা গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এক নারী গার্মেন্টস কর্মী ঢাকার একটি গার্মেন্টস এ হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দিলুর মেয়ে কোহিনুর আক্তারের সাথে চাকরি করত। এক সাথে চাকরি করার সুবাধে তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। সম্প্রতি ভিকটিম কোহিনুরের বিয়ে ঠিক করার সময় তার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময় কোহিনুরের আত্মীয় ওই গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এদিকে গত ১২ মার্চ ছিল কোহিনুরের বিয়ে। ভিকটিম কোহিনুরের বিয়েতে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকা থেকে আসে। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিমের সাথে দেখা করে শিপন মিয়া কোহিনুরের পাশের আশরাফ উদ্দিন এর ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিপন মিয়া ও তার আরও ৩ সহযোগী মিলে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ভিকটিমকে সবাই মিলে ওই ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে যাতে তার মৃত্যু হলে সবাই বুঝতে পারে সে আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষণকারীরা পরে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

পরে ওই বাড়ীর লোকজন ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে ঝুলে থাকতে দেখে তাকে নামিয়ে আনে এবং বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করায়। কিন্তু তারা ধর্ষণের বিষয়টি লুকিয়ে রেখে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে অসুস্থ বলে চিকিৎসা করায় এবং মূল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এভাবে তিনদিন পর গত ১৫ মার্চ তারা ভিকটিমকে তার বড় বোনের কাছে হস্তান্তর করে।

ভিকটিম বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পায় এবং ঘটনা বোনকে খুলে বলে। পরে ১৫ মার্চ ভিকটিমকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার ভিকটিম ও তার বোন লাখাই থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ওই দিন রাতেই অভিযোগ পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ নোয়াগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আশরাফ উদ্দিন এর স্ত্রী আফিয়া বেগম, মকবুল হোসেন এর ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু ও দেলোয়ার হোসেন দিলুর স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার দুপুরে আফিয়া বেগম ও রাবেয়া খাতুনকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা বেগম এর আদালতে নিয়ে আসলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কথা স্বীকার করে। একই আদালত শুক্রবার বিকেলে ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে।

লাখাই থানার ওসি তদন্ত মহিউদ্দিন জানান, গার্মেন্টকর্মীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে শিপন মিয়া ও তার তিন সহযোগী মিলে তাকে ধর্ষণ করে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে। তবে ভিকটিম এর মৃত্যু না হওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মাঝে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার কথা স্বীকার করেছে। আমরা মূল আসামিদেরকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

নিউজ শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *